নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়,শাহরিয়ার কবির

Jobair Ahmed Abir
0

 

ক্লাস নাইনের ছাত্র আবীর। বাবু ছাড়া ওর বন্ধু বলতে তেমন কেউ নেই।বাবু আবীরের মেজ কাকার ছেলে।বাবার সাথে দেশের বাইরে বসবাস করে।এক জুনে বাবু আবীরদের বাড়ী আসে।তারপর থেকে বাড়ির চিলেকোঠায় বসে থাকা ছাড়া আর কোনো কিছু করার নেই ওদের । বন্ধু বান্ধব ওদের তেমন না থাকায় বড় বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। আবিরের মনে আরো একটা দুঃখ লুকিয়ে আছে। আবিরের বড় ভাই অপু প্রায় তিন বছর হলো নিরুদ্দেশ। ভূল করেও বাসার কেউ অপুর নাম নেয় না।মাঝে মাঝে হঠাৎ করে গোপনে অপুর লেখা চিঠি এসে উপস্থিত হয় ওদের পুরোনো বাড়িটায়। সবাই বলে ওর ভাই নাকি বিপ্লবী দলে যোগ দিয়েছে। অপুর সেও একদিন বিপ্লবে অংশগ্রহণ করবে।এতো সব দুঃখের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে জলপাই সবুজ রঙের খাম আসে।আর সেই সবুজ চিঠির প্রেরক নেলী খালা।

নেলী খালার সব কাজে আবীর রোমাঞ্চ খুজে পায়।কিন্তু আবীরের মায়ের দৃষ্টিতে নেলী খালার সমস্ত কাজকে ঊদভুট্টি কান্ড বলে মনে হয়।নেলী খালা জানায় কক্সবাজারের বাড়িটা বিক্রি করে দিয়ে কোথায় না যেন নুলিয়াছড়িতে একটা পুরনো জমিদার বাড়ি কিনেছেন।সবাই বলে বাড়িটা নাকি অভিশপ্ত।

 আবীর আর বাবু নুলিয়াছড়িতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ে রহস্য সমাধানে।

.
শাহরিয়ার কবিরের কিশোর উপন্যাসগুলোর মধ্যে নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এই উপন্যাসের কাহিনী গ্রন্থন এত মনোমুগ্ধকর আর চরিত্রগুলো এতটাই জীবন্ত যে পাঠক তার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।যে কেউ এটি পড়ে একটি কিশোরের অ্যাডভেঞ্চারে হারিয়ে যাবে।বেশ উপভোগ করার মতো বই। কাহিনী, প্লট, দৃশ্যপটের বর্ননা, পার্শ চরিত্র গুলর বর্ননাও সুন্দর।গল্পের পাকড়াশি চরিত্রটি
অসাধু ব্যবসায়ীদের অসৎ কর্মের একটা প্রতীকী রুপ দিয়েছে।এই বইটি তখন রচনা করা হয়েছিলো যখন কিশোরদের জন্য উপভোগ করার মতো তেমন কোনো সাহিত্য রচনা করা হতো না।বইটির আসাধারনত্ব সকল পাঠকের মন ছুঁয়ে দিয়েছে।যেকোন বাংলাভাষী পাঠকের জীবনে অন্তত একবার এমন মনোমুগ্ধকর একটি বাংলাদেশি কিশোরোপন্যাস উপভোগ করা উচিত

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default